বিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আইসিসির বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে বিসিবির কর্মকর্তাদের দাবি, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আইসিসি প্রণীত অত্যন্ত ক্লান্তিকর ভ্রমণসূচিই দলটির ব্যর্থতার বড় কারণ।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশার বলেন,
“ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কৌশলের চেয়ে হিসাব-নিকাশেই আমাদের ভুল বেশি ছিল। তবে আমি বিশেষভাবে ভ্রমণ সূচির বিষয়টি তুলে ধরতে চাই। অনেকেই এটাকে অজুহাত ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো এই সূচি আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল।”
অতিরিক্ত ভ্রমণের ধকল
বাংলাদেশ দল ৬ জানুয়ারি জিম্বাবুয়েতে পৌঁছায়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ ও বাজে পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়লেও, বাশারের মতে বারবার শহর বদলের ধকল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে বাংলাদেশকে যেতে হয় মাসভিংগো ও হারারেতে—যা একে অপরের থেকে প্রায় চার ঘণ্টার দূরত্বে। আইসিসি দলগুলোর জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের কোনো ব্যবস্থা না রাখায় খেলোয়াড়দের দীর্ঘ বাসযাত্রার ওপর নির্ভর করতে হয়।
এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে হারারে থেকে বুলাওয়েতে যেতে হয়, যা প্রায় নয় ঘণ্টার বাসযাত্রা। সেখান থেকে আবার হারারেতে ফিরতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য। সুপার সিক্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আবার বুলাওয়েতে যাত্রা, এবং শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে ফের হারারেতে ফিরে আসতে হচ্ছে দলকে।
নিজের পকেট থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা বিসিবির
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়াতে বিসিবি নিজেদের খরচে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে বলে জানান বাশার।
“বাসে যাত্রা করলে সময় অনেক বেশি লাগত, আর সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া কঠিন ছিল। তাই বিসিবি নিজের পকেট থেকেই এই ব্যবস্থা করে,” বলেন তিনি।
অন্য দলগুলোর তুলনায় বৈষম্য?
বাংলাদেশের কোচিং স্টাফদের অভিযোগ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সূচি বাংলাদেশের মতো এতটা কষ্টকর ছিল না। ভারত তাদের সব ম্যাচই খেলেছে বুলাওয়েতে। অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুতি ম্যাচ ও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলেছে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে, কেবল সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচের জন্য হারারে ভ্রমণ করেছে।
ইংল্যান্ড তাদের প্রস্তুতি ম্যাচ বিভিন্ন শহরে খেললেও পুরো গ্রুপ পর্ব হারারেতেই থেকেছে এবং সুপার সিক্সের আগে চার দিনের বিশ্রামও পেয়েছে।
আইসিসিকে আগেই জানানো হয়েছিল
হাবিবুল বাশার জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিসিবি ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার কথা আইসিসিকে জানায় এবং প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে।
“আইসিসি হঠাৎ সূচি পরিবর্তন করে, ফলে আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য একবার এক ভেন্যু, আবার অন্য ভেন্যুতে ছুটতে হয়েছে। আমরা আগেই জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। একবার টুর্নামেন্ট শুরু হলে আর কিছু করার থাকে না,” বলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসির টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা ও ছোট দলের প্রতি সমান আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট মহলে।

0 Comments